,

ডিএমপির উদ্বেগ পাপিয়ার ‘মনগড়া’ তথ্য প্রকাশ করায় -দৈনিক জনসংযোগ

ডিএমপির উদ্বেগ পাপিয়ার ‘মনগড়া’ তথ্য প্রকাশ করায়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে ‘মনগড়া’ তথ্য প্রকাশ করায় উদ্বেগ জানিয়েছে।

ডিএমপি জানায়, সংবাদমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি পাপিয়ার মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় । কিন্তু কোনো ধরনের আলোচনা না করে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে  বিভিন্ন খবর প্রচার ও প্রকাশ করায় উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিচার্য বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে ডিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, পাপিয়াদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিমানবন্দর এবং শেরেবাংলা নগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত তিনটি মামলা ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এসব মামলায় শামিমা নূর পাপিয়া, তার স্বামী সুমন, সহযোগী সাব্বির ও তাইয়্যবা নূরকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উদ্বেগের কথা জানিয়ে ডিএমপি জানায়, তদন্তাধীন মামলার বিষয়ে রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তদের সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রচারের ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়। যার ফলে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি আরও জানায়, তদন্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলাপ-আলোচনা না করে। তদন্তে প্রাপ্ত কথিত তথ্য হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম-পরিচয় প্রকাশ ও প্রচার করছে। যার সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা নেই কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য নেই। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে ডিএমপি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারী ও দায়িত্বশীল আচরণ দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন : মন জুড়ানো সুলতানা বেগমের কবিতা “বিধাতার বিধান”

পৃথক তিন মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে পাপিয়া তার বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে অবাক করার মতো নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়াও তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে এ দুজনকে ফের ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।